বাণিজ্যিক আমদানি



ইনডেক্স
নিবন্ধন
নিষিদ্ধ পণ্য
আমদানি লাইসেন্স
স্যানিটারি এবং ফাইটোস্যানিটারি সম্পর্কিত ব্যবস্থাগুলো
কারিগরী শর্তাবলী/মানদণ্ড
আমদানি ঘোষণাপত্র
শুল্ক পরিশোধ
ওয়ারহাউস ব্যবস্থার অধীনে আমদানিকৃত পণ্য
অগ্রিম ঘোষণাপত্র
কাস্টমস ব্রোকার
ক্লাসিফিকেশন এবং ভ্যালু
অস্থায়ী আমদানি
অব্যাহতি
আমদানীকারক জন্য এন্টি-ডাম্পিং সম্পর্কিত প্রশ্নাবলী
নিবন্ধন
একজন আমদানিকারক হিসেবে আপনি যদি বাংলাদেশে বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি করতে চান তবে আপনাকে তবে আপনাকে ওএলএম ওয়েবসাইটে আবেদন করে আমদানি নিবন্ধন সনদপত্র গ্রহণ করতে হবে ।
নিষিদ্ধ পণ্য
বাংলাদেশে পণ্য আমদানির আগে সেগুলো "নিষিদ্ধ পণ্য শ্রেণীতে" অন্তর্ভুক্ত কিনা সে সম্পর্কে আগেই নিশ্চিত হওয়া উচিত । বাংলাদেশের বাজারে নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি, রপ্তানি, পরিবহন, বিক্রি বা প্রচার করা যায় না । নিষিদ্ধ পণ্যের মধ্যে রয়েছে অস্ত্র, সাইকোট্রপিক পদার্থ, মাদক এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ । আমদানিকারকে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আইন ও বিধিসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে ।
আপনার কোনো প্রশ্ন/সন্দেহ থাকলে আপনি আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের অফিসের (সিসিআইই) সাথে যোগাযোগ করতে পারেন ।
নিয়ন্ত্রিত পণ্যের তালিকা দেখতে এখানে ক্লিক করুন ।
আমদানি লাইসেন্স
কিছু নির্দিষ্ট প্রকারের পণ্য আমদানির জন্য সিসিআইই থেকে আমদানি লাইসেন্স গ্রহণ করতে হয় । পণ্যের প্রকারের উপর নির্ভর করে, সিসিআইই স্বয়ংক্রিয় বা ম্যানুয়াল লাইসেন্স ইস্যু করে ।
যদি একটি পণ্যের সাথে লাইসেন্সিং বা নির্দিষ্ট স্যানিটারি / ফাইটোস্যানিটারি বা কারিগরী ব্যবস্থার কোন সম্পর্ক না থাকে তবে আপনি কাস্টমসে সরাসরি একটি ঘোষণাপত্র জমা দিয়ে পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন ।
আমদানি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার জন্য পদ্ধতি জানতে এখানে ক্লিক করুন
স্যানিটারি এবং ফাইটোস্যানিটারি সম্পর্কিত ব্যবস্থাগুলো
আপনি যে পণ্য-সামগ্রী আমদানি করতে চান সেগুলোর সাথে যদি স্যানিটারি এবং ফাইটোস্যানিটারি ব্যবস্থাগুলো সম্পর্কিত থাকে তাহলে ঐ পণ্য-সামগ্রীর সাথে সম্পর্কিত বিশেষ নিয়মাবলী মেনে চলতে হবে । আপনি পণ্য অনুসন্ধান পেজে সার্চ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন ।
সাধারণত, আপনি কি ধরণের পণ্য আমদানি করতে চান তার উপর নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে অনুমতিপত্র
গ্রহণ করতে হবে । অনুমতিপত্র গ্রহণের বিস্তারিত প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের বিবরণ এই ওয়েবসাইটের পদ্ধতি পেজে পাওয়া যাবে ।
ডব্লিউটিও এর এসপিএস (SPS) এগ্রিমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী সন্নিবেশিত করে বাংলাদেশ ট্রেড পোর্টাল একটি এসপিএস ইনকয়েরি পয়েন্ট প্রতিষ্ঠা করেছে । স্যানিটারি এবং ফাইটোস্যানিটারি ব্যবস্থাগুলো সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন থাকলে আপনি এসপিএস ইনকয়েরি পয়েন্টের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন ।
কারিগরী শর্তাবলী/মানদণ্ড
কিছু নির্দিষ্ট প্রকারের পণ্যের জন্য এই মর্মে প্রত্যায়িত একটি অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে যে পণ্যগুলো নির্দিষ্ট/নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ । এসব কারিগরি বিধি-বিধানসমূহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় ।
আপনি পণ্য অনুসন্ধান পেজে সার্চ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন । এই সম্পর্কিত অন্যান্য প্রক্রিয়াসমূহ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের বিবরণ এই ওয়েবসাইটের পদ্ধতি পেজে পাওয়া যাবে ।
ডব্লিউটিও এর টিবিটি (TBT) এগ্রিমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী সন্নিবেশিত করে বাংলাদেশ ট্রেড পোর্টাল একটি টিবিটি ইনকয়েরি পয়েন্ট প্রতিষ্ঠা করেছে । কারিগরী মানদণ্ড সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন থাকলে আপনি টিবিটি ইনকয়েরি পয়েন্টের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন । বিস্তারিত জানার জন্য আপনি বিশেষ ব্যবস্থা (Special Measures) পেজে ক্লিক করতে পারেন ।
আমদানি ঘোষণাপত্র
বাংলাদেশে আমদানিকৃত সকল পণ্য ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে আমদানি করতে হবে এবং এক্ষেত্রে রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক শুল্ক অব্যাহতি বা স্থগিতাদেশ দেওয়া না হলে অবশ্যই শুল্ক পরিশোধ করতে হবে ।
ঘোষণাপত্র হিসেবে যথাযথভাবে পূরণকৃত এবং স্বাক্ষরিত একটি নির্ধারিত ফর্মের সাথে নিম্নবর্ণিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে:
পণ্য সরবরাহকারী থেকে পাওয়া বাণিজ্যিক চালান বা বিক্রয় ডকুমেন্টের চুক্তিপত্র
পরিবহন ডকুমেন্ট যেমন বহন পত্র বা এয়ার ওয়ে বিল
প্যাকিং তালিকা (যদি থাকে)
রপ্তানিকারক কর্তৃক সরবরাহকৃত মূল সার্টিফিকেট (সার্টিফিকেট অফ অরিজিন )
আমদানিকৃত পণ্যের ধরনের উপর নির্ভর করে অন্যান্য মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যুকৃত কোন আমদানি লাইসেন্স বা অনুমতিপত্রের কপি
আঞ্চলিক কাস্টমস অফিসে ঘোষণাপত্র জমা দেওয়া যেতে পারে । কাস্টমস অফিসের তালিকা দেখতে এখানে ক্লিক করুন (এখানে আমদানিকারক ঘোষণাপত্র জমা দিতে পারে এবং আমদানিকৃত পণ্য খালাস করতে পারে ) ।
কাস্টমসের কাজে স্বচ্ছতা আনতে চট্টগ্রাম কাস্টমসে আঙ্কটাড কর্তৃক ডিজাইনকৃত ASYCUDA স্বয়ংক্রিয় কাস্টমস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে ।
অগ্রিম ঘোষণাপত্র
আমদানি ক্লিয়ারিং প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য আপনি প্রি-এ্যারাইভাল কাস্টমস ডিক্লারেশন জমা দিতে পারেন । এই প্রক্রিয়াটি পণ্য আসার তারিখের পূর্ববর্তী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে । এক্ষেত্রে একটি সাধারন ঘোষণাপত্র জমা দেওয়ার একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে । আমদানিকারক পণ্য খালসের সময়ে শুল্ক পরিশোধ করতে পারেন ।
কাস্টমস ব্রোকার
আপনার পক্ষ থেকে আমদানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আপনি একজন কাস্টমস ব্রোকার নিয়োগ করতে পারেন । ব্রোকার সংক্রান্ত তথ্যের জন্য এখানে ক্লিক করুন ।
ক্লাসিফিকেশন এবং ভ্যালু
আমদানিকৃত পণ্যের কাস্টমস শুল্ক তাদের ঘোষিত মূল্যের শতকরা ভাগ হিসাবে পরিশোধ করা হয় । বাংলাদেশে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর পরিশোধযোগ্য শুল্ক হার পণ্য এবং উৎপত্তি দেশ (কান্ট্রি অফ অরিজিন) অনুযায়ী পরিবর্তিত হয় । পণ্যদ্রব্য ৮ ডিজিটের হারমোনাইজিড সিস্টেম (এইচএস) কোড ব্যবহার করে শ্রেণীবদ্ধ করা হয় যা ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের তত্ত্বাবধানে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং প্রয়োজন অনুসারে সংশোধন করা হয় । আপনি এই ওয়েবসাইটে পণ্য অনুসন্ধান পেজে সার্চ করে বাংলাদেশ ট্যারিফের সম্পূর্ণ ক্লাসিফিকেশন এবং ট্যারিফ হার দেখতে পারেন ।
আমদানিকারকের দায়িত্ব হচ্ছে পণ্যের সঠিক শ্রেণীবিভাগ, উৎপত্তি, মান এবং পরিমাণের তথ্য শুল্ক বিভাগকে জানানো । আমদানিকারকের কোনো প্রশ্ন/সন্দেহ থাকলে কাস্টমস বিভাগের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন ।
পণ্যের প্রকৃত লেনদেনের মূল্যমানের ভিত্তিতে শুল্কের হিসাব করা হয় (এক্ষেত্রে বাণিজ্যিক চালান বা অন্যান্য বিক্রয় ডকুমেন্ট চুক্তি সংক্রান্ত নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়) । এই পদ্ধতিতে পণ্যের মূল্যমান নির্ধারণ করা সম্ভব না হলে, কাস্টমস বিভাগ জেনারেল এগ্রিমেন্ট অন ট্যারিফ এ্যান্ড ট্রেড (GATT ১৯৪৭) এর ৭ নং ধারা অনুযায়ী আরো পাঁচ ধরণের এই পদ্ধতি ব্যবহার করে পণ্যের মূল্যমান নির্ধারণের চেষ্টা করে ।
শুল্ক পরিশোধ
কাস্টমস বিভাগে ডিক্লারেশন জমা দেওয়া এবং তা কাস্টমস কর্তৃক গৃহীত হওয়ার পর শুল্ক পরিশোধ করতে হয় । দেশের প্রধান প্রধান সীমান্ত পোস্টের নিকটবর্তী ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানিকারক শুল্ক পরিশোধ করতে পারে ।ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য শুল্ক রশিদের কপি কাস্টমস বিভাগে উপস্থাপন করতে হবে । অন্যান্য সীমান্ত পোস্টে শুধুমাত্র নগদ অর্থ গ্রহণ করা হয় সেক্ষেত্রে আপনি কাস্টমস ক্যাশিয়ারের দপ্তরে শুল্ক পরিশোধ করতে পারেন ।
ওয়ারহাউস ব্যবস্থার অধীনে আমদানিকৃত পণ্য
আমদানিকারক যদি আমদানিকৃত পণ্যদ্রব্য কিছুদিন পরে দেশের বাজারে ছাড়তে চায় তাহলে তিনি ওয়ারহাউস ব্যবস্থার অধীনে আমদানি করতে পারেন । পণ্য গুদামে থাকাকালীন সময়ের জন্য শুল্ক পরিশোধ স্থগিত করা হবে এবং বাজারে ছাড়ার সময় ডিউটি পরিশোধ করতে হবে । ওয়ারহাউস ব্যবস্থার অধীনে পণ্য গুদামে রাখার সময় একটি আমদানি ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে এবং বাজারে ছাড়ার সময় যথারীতি আরেকটি ডিক্লারেশন জমা দিতে হবে । দেশে বিভিন্ন ধরনের ওয়ারহাউস আছে । বিস্তারিত জানার জন্য কাস্টমস আইনের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখতে পারেন ।
অস্থায়ী আমদানি
নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে পণ্য-সামগ্রী আমদানি করা যাবে:
উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, রূপান্তর বা মেরামতের জন্য আমদানিকৃত যন্ত্রপাতি ও সাজসরঞ্জাম যা এক বৎসরের মধ্যে পুনঃ রপ্তানি করা হবে ।
প্রকল্প তত্ত্বাবধানের উদ্দেশ্যে, পর্যটনের বা ব্যবসায়িক ভ্রমণের জন্য আমদানিকৃত যানবাহন যেগুলো নির্ধারিত সময় পর পুনরায় এক্সপোর্ট করা হবে ।
বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে সমস্ত সরঞ্জাম/সামগ্রী আমদানি করার প্রয়োজন হয়
এক্সিবিশন, শিক্ষামূলক বা বৈজ্ঞানিক উপকরণ
এই ধরনের আমদানির জন্য অস্থায়ী আমদানি ব্যবস্থার অধীনে একটি ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে ।এই ধরণের আমদানির জন্য কোন শুল্ক পরিশোধ করতে হবে না ।
আমদানি ও রপ্তানি বন্দর একই হইলে আমদানিকৃত পণ্য বন্দরের বাইরে নেওয়া যাবে না । আমদানি ও রপ্তানি বন্দর ভিন্ন হইলে ডিউটি ড্র-ব্যাকের আওতায় শুল্ককর পরিশোধ অথবা ১০০% ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শুল্ক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে রপ্তানি বন্দরে স্থানান্তরপূর্বক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পণ্য রপ্তানি করতে হবে । আমদানিকৃত পণ্য পুনঃ রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সকল পদ্ধতি ও আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হবে। মেশিনারী, ইকুইপমেন্ট বা সিলিন্ডার মেরামত, রি-ফিলিং বা মেইনটেন্যান্স ইত্যাদির জন্য বিদেশে প্রেরণের ক্ষেত্রে পণ্যের সমমূল্যের ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করতঃ আমদানি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিকট হতে রপ্তানি-কাম-আমদানি পারমিট বা অনুমতি গ্রহণ করতে হবে (রেফারেন্স: আমদানি নীতি আদেশ ২০১২-১৫) ।
সিসিআইই কর্তৃক ইস্যুকৃত অস্থায়ী আমদানি অনুমতিপত্রের রেফারেন্স নথির জন্য এখানে ক্লিক করুন ।
অব্যাহতি
কূটনৈতিক মিশন, সরকারী বিনিয়োগ উন্নয়ন প্রকল্পের, নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক জোন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে আমদানিকৃত পণ্যের জন্য কাস্টম ডিউটি এবং অন্যান্য বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায় । শুল্ক অব্যাহতি পাওয়ার জন্য বিবেচ্য পণ্যের তালিকা দেখতে এখানে ক্লিক করুন ।
এই অব্যাহতি সুবিধা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য কাস্টমসের সাথে যোগাযোগ করুন ।
বাংলাদেশে আসা যাত্রীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের জন্য কাস্টম ডিউটি পরিশোধ করতে হয না । ব্যক্তিগত পণ্যের নির্দিষ্ট পরিমান জানার জন্য এই ওয়েবসাইটে ব্যাগেজ রুলস পেজে সার্চ করে বিস্তারিত জানতে পারেন ।
আমদানীকারক জন্য এন্টি-ডাম্পিং সম্পর্কিত প্রশ্নাবলী